বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় সংসদ অধিবেশন উপলক্ষে ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তি নওগাঁর ধামইরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত” বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে -স্পীকার শিশু অধিকার সুরক্ষায় সংসদীয় ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খানের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টারি ককাস অন হিউম‌্যান রাইটস এ‌্যান্ড পিস” এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত কর্তব্যরত অবস্থায় আহত পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে ডিএমপি কমিশনার সংসদীয় কার্যক্রম আধুনিকায়নে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

শিশু অধিকার সুরক্ষায় সংসদীয় ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আইন বাস্তবায়ন, বাজেট বরাদ্দ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ ডেপুটি স্পীকারের

ঢাকা, ০৫ নভেম্বর ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত ‘শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ককাসের পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি।

বৈঠকে ককাসের সদস্য মোরশেদ মিলটন এমপি, এ কে এম ফজলুল হক মিলন এমপি, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, আন্না মিন্জ এমপি ও মাধবী মার্মা এমপি অংশগ্রহণ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংসদীয় উদ্যোগ জোরদার, নীতি-আলোচনা, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় ককাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিশু অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে শিশু অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে অনেক আইন রয়েছে। তবে এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আইন, বাজেট এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শিশু অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারের প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পীকার আরও বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলমত, শ্রেণি-পেশা কিংবা সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ককাসের কার্যক্রম গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শিশু অধিকার-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত আইন ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডেপুটি স্পীকার বলেন, প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে। নির্বাহী বিভাগে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে সংসদ সদস্যরা বেসরকারি বিলের মাধ্যমেও বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করতে পারেন। এ বিষয়ে সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি নির্বাহী বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে ককাসের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে এ ধরনের সংসদীয় ককাসের উদ্যোগকে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ককাসের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। এ সময় ককাসের সদস্য ও অংশীজনদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণও জানান তিনি।

বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র হিসেবে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু, অসহায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপি বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসব কার্যক্রমের সুফল যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews