সংসদীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও নরওয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার সুরক্ষা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে অন্যতম এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে।
দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছিল।
স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সূচনা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানবিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নরওয়েসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষী পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গেও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশের চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম এবং জুলাই সনদ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান।
এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নরওয়ে দূতাবাসের প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।