গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার, বিজয়া দশমীর বিসর্জন শোভাযাত্রায় থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরীতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ বছর রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়মিত দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ২ হাজার ৭২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতি, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপের প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। রাজধানীতে এ উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে ডিএমপি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, পূজামণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৫৭টি মণ্ডপকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপের প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। পূজামণ্ডপের আশপাশে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তু সম্পর্কে সতর্ক নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, এক্সপ্লোসিভ রিকভারি অ্যান্ড বম্ব ডিসপোজাল টিম, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট প্রস্তুত থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রার পথ, জনসমাগম ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান কমিশনার।
তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, মন্দির পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। ডিএমপির নিরাপত্তাব্যবস্থা, পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীলতা এবং নগরবাসীর সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা আরও সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএমসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনই ডিএমপির মূল লক্ষ্য।