শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নগরবাসীর সুবিধায় অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময়সীমা যাত্রাবাড়ী থানার বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬ ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৭৫৯, মামলা ৪২ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ২,৮১৩ মামলা, ডাম্পিং ৬৯৮ গাড়ি রমনা কালী মন্দিরের চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার ও মূল আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ডিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হলেন যারা ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬৪, মামলা ৪২ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬৪, মামলা ৪২ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৯১৫ মামলা magic red casino ukgc license gamstop explained for UK players

নগরবাসীর সুবিধায় অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময়সীমা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বিদেশগমন, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন ও ভিসা আবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (Police Clearance Certificate—PCC) একটি প্রয়োজনীয় সরকারি দলিল। নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ পুলিশ চালু করেছে অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা। এ ব্যবস্থায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

বাংলাদেশ পুলিশ ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা চালু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পোর্টাল চালুর মাধ্যমে এ সেবার পরিধি বাড়ানো হয়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সেবাটি চালুর পর থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪০ জনকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ধরন

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা তিন ধরনের—

১. এপোস্টিল অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
২. স্পেনের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
৩. পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ওভারসিস শাখার মাধ্যমে ইস্যু করা ম্যানুয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স।

আবেদনের পূর্বশর্ত

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদনকারীর পাসপোর্টের কমপক্ষে তিন মাস মেয়াদ থাকতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে।

পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী বা জরুরি ঠিকানার মধ্যে প্রযোজ্য ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় বসবাসের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে—

  • অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র।
  • পাসপোর্টের তথ্যপাতার স্ক্যান কপি, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সত্যায়নসহ।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ।
  • পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঠিকানার সমর্থনে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সনদ।
  • বিদেশ থেকে পাসপোর্ট ইস্যু বা পুনরায় ইস্যু করা হয়ে থাকলে এবং আবেদনকারী বাংলাদেশে অবস্থান করলে সর্বশেষ বাংলাদেশে প্রবেশের সিলযুক্ত পৃষ্ঠার স্ক্যান কপি।
  • সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার চাহিদাপত্র, যেখানে প্রযোজ্য।
  • নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্যপাতার কপি প্রয়োজন হতে পারে। অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করতে চাইলে সংগ্রহকারীর নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে যথাযথভাবে সত্যায়িত অনুমতিপত্র (Authorization Letter) জমা দিতে হবে।

বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।

যেভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন

আবেদন করতে প্রথমে বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।

আবেদনের ওয়েবসাইট: https://pcc.police.gov.bd/

আবেদনের ধাপগুলো হলো—

১. অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধন করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

২. নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে লগইন করে ‘Apply’ মেনুতে প্রবেশ করুন।

৩. ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং পাসপোর্টের তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।

৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি নির্ধারিত স্থানে আপলোড করুন।

৫. প্রযোজ্য ফি নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন।

৬. সব তথ্য ও সংযুক্ত নথি ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন জমা দিন।

বিশেষ সতর্কতা: আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য সংশোধনের সুযোগ সীমিত বা অনুপস্থিত থাকতে পারে। তাই আবেদন Submit করার আগে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আবেদন ফি ও পরিশোধ পদ্ধতি

প্রদত্ত তথ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা ফি উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ট্রেজারি চালান কোডে অর্থ জমা দেওয়া অথবা পোর্টালে অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

তবে ফি, চালান কোড ও অনলাইন পেমেন্টের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন কোথায় হবে?

আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা যে জেলা বা মহানগর এলাকার অন্তর্ভুক্ত, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাকরি বা অন্যান্য কাজে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চ (DSB) অথবা মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের (City SB) সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

আবেদন স্ট্যাটাস জানবেন যেভাবে

আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে নির্ধারিত ফরম্যাটে মোবাইল থেকে এসএমএস পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, PCC S লিখে আবেদনের রেফারেন্স নম্বর যুক্ত করে ২৬৯৬৯ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি বার্তায় আবেদনের অবস্থা জানানো হয়। এসএমএসের ফরম্যাট ও নম্বর ব্যবহারের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া বর্তমান নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

কত দিনে পাওয়া যাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স?

প্রদত্ত তথ্যে এপোস্টিল অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের তদন্ত ও সনদ প্রদানের সময়সীমা সর্বোচ্চ তিন কার্যদিবস উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে সময় নির্ভর করতে পারে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই, ঠিকানা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের যথার্থতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টালের নির্দেশনা ও স্ট্যাটাস অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সনদ সংগ্রহের সময় যা লাগবে

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহের সময় আবেদনকারীর পাসপোর্টের কপি অথবা আবেদনপত্রের কপি সঙ্গে রাখতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীর পক্ষে অন্য কেউ সনদ সংগ্রহ করলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী দূতাবাস বা জাস্টিস অব পিস কর্তৃক সত্যায়িত অনুমতিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

যোগাযোগ ও সহায়তা

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত তথ্য ও সহযোগিতার জন্য প্রদত্ত তথ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হেল্পডেস্কের যোগাযোগের বিবরণ দেওয়া হয়েছে—

  • মোবাইল: ০১৩২০০০১৮২৪
  • ইমেইল: pcc@police.gov.bd
  • কার্যদিবস: রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার
  • সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা, সরকারি ছুটি ব্যতীত।

যোগাযোগের তথ্য ব্যবহারের আগে সরকারি পোর্টাল থেকে নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

নাগরিক সেবায় ডিজিটাল উদ্যোগ

অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা নাগরিকদের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা, দাপ্তরিক ভোগান্তি কমানো এবং সেবার অগ্রগতি জানার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় নথি যথাযথভাবে আপলোড এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

অনলাইনে আবেদন করুন: https://pcc.police.gov.bd/

সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে সনদ প্রদানের তিন কার্যদিবসের সময়সীমা, ফি, এসএমএস নম্বর, সেবার পরিসংখ্যান ও হেল্পডেস্কের যোগাযোগের তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews