ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.
রাজধানীর উত্তরায় একটি ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়লব্ধ **১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগের যৌথ আভিযানিক দল।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট, একটি মোটরসাইকেলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন
১. মোঃ ইলিয়াস শিকদার (৩৬)
২. জাফর (৩৬)
৩. মোঃ রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪)
৪. মিন্টু রাড়ী (২৩)
৫. সাগর বাড়ৈ (৪০)
যেভাবে ঘটেছিল ডাকাতির ঘটনা
গত ৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে, উত্তরা পূর্ব থানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিমসহ চারজন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়লব্ধ ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার নিকট বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত তাদের গতিরোধ করে। পরে অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আঘাত করে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা লুট করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দুইজন গ্রেফতার
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইলিয়াস শিকদারের বন্দর থানা এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—
র্যাব লেখা ৩টি ভেস্ট ও ২টি ক্যাপ
২টি নম্বর প্লেট
র্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র
৩টি ওয়াকিটকি সেট
৪ জোড়া হাতকড়া
২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল
৩টি ম্যাগাজিন
৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি
মাতুয়াইল ও যাত্রাবাড়ী থেকে আরও দুইজন গ্রেফতার
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
রবিউল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে মিন্টু রাড়ীর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—
র্যাব লেখা ৪টি ভেস্ট
স্টিলের ২টি ও অফসেট পেপারের ৪টি নম্বর প্লেট
র্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র
ওয়াকিটকি সেট ও চার্জার
৩ জোড়া হাতকড়া
২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল
৩টি ম্যাগাজিন
১৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি
পোস্তগোলা থেকে পঞ্চম আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার ৯ লাখ টাকা
পরবর্তীতে রবিউল ও মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাগর বাড়ৈকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের এই ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
ডিবি প্রধান প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সংঘবদ্ধ এই ডাকাতচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
— নিজস্ব প্রতিবেদক