মাদকে ‘জিরো টলারেন্স’, ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদারের নির্দেশ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৬: মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ, থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। মাদক কারবারি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ছিনতাই প্রতিরোধে রাজধানীর ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিটিটিসি ও ডিবির সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও বিশেষ অভিযান জোরদার করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেন তিনি। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা যথাযথভাবে যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হকসহ ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, সকল থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা।
সভায় রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও ছিনতাই দমন এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ইউনিটকে সমন্বিত ও কার্যকরভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।