ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.
রাজধানীতে ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও অননুমোদিত ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে প্রতারকচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। তানভির আলম ওরফে রাহাত (২৩) ও ২। মো: নুরনবী ইসলাম ওরফে মানিক (২৩)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতো। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হতো। এসব ভিডিও ও পোস্টে প্রস্টেট সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘Prostulin F’ নামের একটি ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি করা হতো। জনপ্রিয় চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে এসব পণ্য ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তেছে।
ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে আইনগত প্রতিকারের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় মামলা রুজুর পর ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত শুরু করেন। মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৪টি সিম কার্ড এবং ৭টি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রোডাক্ট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ চক্রের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ডিবির পরামর্শ: অনলাইনে কোনো ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করতে হবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করে কোনো ওষুধ ক্রয় করা থেকে বিরত থাকা। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করা।