ঢাকা, ৪ আগস্ট ২০২৬: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে চক্রটির মূল সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ ফারুক হোসেন (৪১), সাকিব খান (২৫), মাসুম মুনসী (৪৫), মীর তৌহিদুল ইসলাম (৩৬) এবং মোঃ বকুল মন্ডল (৩৫)।
ডিবি জানায়, মঙ্গলবার মাদারীপুরের কালকিনি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন ও সাকিব খানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে মীর তৌহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। এছাড়া কালকিনি থানা পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার মাসুম মুনসীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। অপরদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করা হয় বকুল মন্ডলকে।
অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের অফিসিয়াল লেটারহেডের ৪ বান্ডিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নামে ব্যবহৃত ৪১টি জাল সিল ও স্বাক্ষর, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৮টি মোবাইল ফোন, ২টি কম্পিউটার এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটির মূল হোতা মোঃ ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান পদে যোগদান করেন। ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে নথি তৈরি করেন। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে ভুয়া ‘Priority’ সিল ব্যবহার করে দ্রুত নিষ্পত্তির অপচেষ্টাও চালান।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, লিখিত নথি জালিয়াতির পাশাপাশি চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং চাকরি পুনর্বহালসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করত। একই কৌশলে মলদোভায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিবি প্রধান জানান, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড তৈরি করে প্রতারণা, তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এই সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।