
ঢাকা, ০৫ জুন ২০২৬ খ্রি.সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত “ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সবাই সমান” শীর্ষক সংবাদে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের গমনাগমন সংক্রান্ত যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ এবং প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে মিন্টো রোডের সংশ্লিষ্ট সিগন্যালটি “ওয়ান ওয়ে” বা একমুখী এবং ডিএমপি কমিশনারের গাড়িবহরকে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে পার করা হয়েছে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।
প্রথমত, মিন্টো রোড কোনোভাবেই একমুখী (One Way) সড়ক নয়। এ সড়কে উভয় দিকেই যানবাহন চলাচল করে থাকে। যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিকের অস্থায়ী কোন স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরমুখী যানবাহনকে ইউ-টার্ন করে দক্ষিণমুখী করার একটি অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়। এটি কোনো স্থায়ী অবকাঠামো বা স্থায়ী ট্রাফিক বিধিনিষেধ নয়।
দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট স্থানে ট্রাফিক পরিস্থিতি, যানবাহনের চাপ (Traffic Volume) এবং তাৎক্ষণিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অস্থায়ী ইউ-টার্ন ব্যবস্থা প্রতিদিনই একাধিকবার খোলা ও বন্ধ করা হয়ে থাকে। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী চালক ও পথচারীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
তৃতীয়ত, ডিএমপি কমিশনার মহোদয়ের গাড়িবহরের গমনাগমনও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আওতাতেই সম্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিশেষ সুবিধা গ্রহণ কিংবা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। সংবাদে ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কোনো পথ শুধুমাত্র কমিশনারের গাড়িবহরের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশ্বাস করে, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ধরনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাইপূর্বক সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।