
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী তিনি ১,৪৭,৮৯৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১,১৭,০১৮ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ১৬,২২৩ ভোট।
স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তাদের ভাষ্য, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি, প্রচারণা জোরদার এবং প্রতীকের পক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নয়নের উদ্যোগ না থাকলে এই ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। তার দাবি, নয়ন নেতাকর্মীদের বারবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দলীয় ঐক্য জোরদার করেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থিতা ঘোষণার পর শুরুতে দলের ভেতরে কিছু অনীহা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে নয়ন প্রচারণা জোরদার করেন এবং কর্মীদের সক্রিয় করতে কাজ করেন। শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মিল্টন মুন্সী বলেন, নয়নের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে কাজ করেন।
অন্যদিকে মোহাম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম মিয়া সাবু মন্তব্য করেন, নয়নের অনুরোধ ও চাপের কারণেই অনেকে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন—যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।
নিজের ভূমিকা সম্পর্কে নয়ন বলেন, তিনি দল ও তার নেতা তারেক রহমান-এর নির্দেশ পালন করেছেন এবং দলের প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করাই ছিল তার লক্ষ্য। তার বক্তব্য, দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তিনি কাজ করেছেন।
বিশ্লেষণধর্মী পর্যবেক্ষণ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফলটি শুধু প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করেনি; সংগঠনিক সমন্বয়, মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বিধা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে কিছু নেতাকর্মীর ভাষ্যে “চাপ প্রয়োগ” প্রসঙ্গ উঠে আসায় নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।