
ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০২৬ একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে গিয়ে সেটিসহ আরো ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার করেছে ডিএমপির রামপুরা থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ জহিরুল ইসলাম (৩৪) ২। অলি উল্লাহ (২৮) ৩। সফিউল্লাহ খান (২৯) ও ৪। গাজী সাগর (২৭)।
গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
রামপুরা থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল মোঃ সাহাল বিন রফিক নামে এক ব্যক্তি তার সুজুকি জিক্সার এসএফ মডেলের মোটরসাইকেলটি বনশ্রী সি ব্লকের ৬ নম্বর রোডে রেখে কাজে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন তার মোটরসাইকেলটি যথাস্থানে নেই। পরে তিনি রামপুরা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান এবং রামপুরা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
থানা সূত্রে আরো জানা যায়, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রের সন্ধান পায় রামপুরা থানা পুলিশ। প্রথমে ১৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ০৮:৩০ ঘটিকায় নরসিংদীর পলাশ থানাধীন ডাঙ্গা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে মোঃ জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে এবং চুরি যাওয়া সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ।
পরবর্তীতে জহিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অভিযান পরিচালনা করে ১৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় আড়াইহাজার থানাধীন বিশনন্দী ফেরিঘাট থেকে অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে এপাচি আরটিআর মডেলের একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সোমবার ২০ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় জহিরুলের তথ্য অনুসারে ডাঙ্গা বাজারের খান মটরস এ অভিযান চালিয়ে আরও চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং খান মটরসের মালিক সফিউল্লাহ খানকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ২০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় সফিউল্লাহ খানের দেওয়া তথ্য অনুসারে আবারও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন বিশনন্দী ফেরিঘাট এলাকা থেকে চোর চক্রের আরেক সদস্য গাজী সাগরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে চোরাই একটি এমটি-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাটখিলসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
রামপুরা থানা পুলিশের এই সাফল্য নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়িয়েছে। সকল ধরনের অপরাধ দমনে ডিএমপির অভিযান অব্যাহত থাকবে।