ঢাকা, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.
রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানাধীন স্বামীবাগের মুনশিরটেক এলাকায় মাদক কারবারের আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি-ওয়ারী)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি লোহার তৈরি কাঠের বাটযুক্ত ধারালো ছোরা এবং ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—ফরিদ বেপারী (২৩), মোঃ সবুজ (২২), শাহাদাত হোসেন আলিফ (১৮) ও রিফাত হোসেন (১৯)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গেন্ডারিয়া থানাধীন স্বামীবাগের মুনশিরটেক এলাকায় মাদক কারবারের আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ পথচারী ও দোকানদারসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ওয়ারী) ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে, গোয়েন্দা তথ্য ও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে ডিবি (ওয়ারী) বিভাগের একটি চৌকস অভিযানিক দল যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় থেকে দয়াগঞ্জগামী পাকা রাস্তার পাশে ৮ নম্বর পাড়া, গেন্ডারিয়া মীর হাজীরবাগ এলাকায় ইসরাত কনস্ট্রাকশনের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর ফরিদ বেপারীর দেহ তল্লাশি করে তার কোমরে গোঁজা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল, একটি স্টিলের ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তার প্যান্টের সামনের পকেট থেকে ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, মোঃ সবুজের দেহ তল্লাশি করে তার কোমরে গোঁজা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল ও একটি স্টিলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া শাহাদাত হোসেন আলিফের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু এবং রিফাত হোসেনের কাছ থেকে একটি লোহার তৈরি কাঠের বাটযুক্ত একপাশ ধারালো আঁকাবাঁকা ছোরা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও মাদক ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সক্রিয় সদস্য। গত ৩০ আগস্ট স্বামীবাগ এলাকায় গোলাগুলি ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে তাদের ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে ডিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান বলেন, রাজধানীতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।