
ঢাকা, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। আজ (সোমবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি’র সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত Indian High Commissioner Pranay Verma সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতকালে ডেপুটি স্পীকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। সংসদীয় তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ কূটনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের লোকসভার সঙ্গে জাতীয় সংসদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ধারণা উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে বিএনপির ৩১ দফায় অন্তর্ভুক্ত হয়। উচ্চকক্ষ সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হলেও এর সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনার দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল ও পেপারবিহীন ই-পার্লামেন্ট চালুকরণ, সংসদীয় কার্যক্রমে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর ব্যবহার, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্ব, গঠন ও কার্যক্রম, সংসদকে আরও জবাবদিহিকরণ, সংসদ সদস্যগণকে প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নে অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সুসম্পর্ক বজায় রাখা, চিকিৎসা সেবা সহজীকরণ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন।
এ সময় হাইকমিশনার ডেপুটি স্পীকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বই ও শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন।
সাক্ষাতকালে ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিষ্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।