
ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোঃ সাজ্জাত আলী, এনডিসি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপির গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার জানান, এবারের নির্বাচনে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর অবস্থান, ভোটারের সংখ্যা ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,৬১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম চারজন এবং ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুম ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর আটটি ডিভিশনে আটটি ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েনের জন্য সুবিধাজনক স্থানে থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, যা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইমসিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন,
“নানা কারণে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেসব থেকে বেরিয়ে এসে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হবে।”
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যক্রম শুরু করে ডিএমপি। এর অংশ হিসেবে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্যকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন,
“এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মোঃ সরওয়ার, বিপিএম-সেবা (অতিরিক্ত আইজি), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, পিপিএম, সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।