গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নির্ধারিত সময়েও অধিকাংশ চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টায় সরকারি কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের চিকিৎসক সকাল ১০টা পর্যন্তও উপস্থিত হননি। ফলে আউটডোরসহ বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক রোগী অভিযোগ করেন, দায়িত্বে অবহেলা করে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত চেম্বারে সময় দিচ্ছেন বেশি, যার প্রভাব পড়ছে সরকারি সেবায়।
হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি এনসিডি (NCD) কর্নার বন্ধ থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এ সময় উপস্থিত রোগী ও স্বজনরা দ্রুত চিকিৎসা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দেরিতে আসার বিষয়ে অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, তিনি দূর থেকে আসায় নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে কিছুটা দেরি হয়। তবে প্রতিদিন সময়মতো আসার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন। অন্যদিকে কয়েকজন চিকিৎসক দেরির বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে তত্ত্বাবধায়কের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকেও স্পষ্ট কোনো বক্তব্য মেলেনি।
এ অবস্থায় রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
রোগী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।