ফরিদপুর ফরিদপুরে সক্রিয় একটি আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে চক্রের ১২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ১৮টি ইজিবাইক ও বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ।
আজ দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ফরিদপুর কোতয়ালী থানা এলাকার একটি পার্কিং থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চালক মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলাজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বাকি ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চুরির অভিনব কৌশল
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, ইজিবাইক চুরির পর শনাক্ত হওয়া এড়াতে তারা সুসংগঠিতভাবে কাজ করত। তাদের কৌশলের মধ্যে ছিল:
যন্ত্রাংশ বিচ্ছিন্নকরণ: ইজিবাইকগুলো দ্রুত ভেঙে পার্টস আলাদা করে ফেলা।
বিকৃতি: ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষে বিকৃত করা।
ভোল পরিবর্তন: রং পরিবর্তন করে এবং অবৈধ গ্যারেজে পুনরায় সংযোজন করে নতুন রূপে বিক্রি করা।
উদ্ধারকৃত মালামাল
অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি সচল অবস্থায় এবং ৫টি অচল অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত কাটার মেশিন ও বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মোঃ আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। পুলিশ তাদের পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পুলিশের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, "এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ চালকদের উপার্জনের মাধ্যম ইজিবাইক চুরি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, আজমির হোসেন, রায়হান গফুর (ডিএসবি) এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন।