
রাজধানীর বাড্ডায় থানাধীন এলাকার একটি বাসায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ৪ (চার) জনকে গ্রেফতার করেছে বাড্ডা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ সিফাত হোসেন (২১) ২। মোঃ সাকিব আল হাসান (১৯) ৩। রাইয়ান (২০) ও ৪। মোঃ নয়ন প্রমানিক (২১)।
বাড্ডা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬.১৫ ঘটিকা হতে রাত আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকার মধ্যে অজ্ঞাতনামা আসামিরা ভিকটিম নাজমুল হক নিয়াজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মামা মোঃ ফারুকুল ইসলাম বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলাটি রুজুর পর বাড্ডা থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করে। পরবর্তীতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকায় গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সিফাতকে গ্রেফতার করে। একই দিন রাত আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় রাজধানীর মগবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাকিব আল হাসান, রাইয়ান ও নয়ন প্রমানিককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি টেলিভিশন, একটি মোবাইল ফোন ও আসামির ব্যবহৃত পোষাক উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ভিকটিম নাজমুলের সাথে একটি নিষিদ্ধ গে অ্যাপের মাধ্যমে প্রথমে ‘আলিফ’ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে আলিফই সিফাত ও সাকিবকে নাজমুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রেফতারকৃতরা একাধিকবার নাজমুলের বাসায় এসে গাঁজা সেবন করতো এবং শারীরিক সম্পর্কে জড়াতো। সিফাত ও সাকিবের গার্লফ্রেন্ডদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। তারা পরিকল্পনা করেন নাজমুলের কাছ থেকে যেকোনোভাবে টাকা আদায় করবে। এ উদ্দেশে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারা একটি ধারালো ছুরি কেনেন। সিফাত ছুরিটি নিয়ে নাজমুলের বাসায় যায় ও কৌশলে তোষকের নিচে রাখে। পরে তারা গাঁজা সেবন করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। নাজমুল কিছুটা অচেতন হয়ে পড়লে সিফাত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছুরি দিয়ে তার মুখে ও গলায় গুরুতর জখম করে হত্যা করে। হত্যার পর তারা নাজমুলের দুটি স্যামসাং মোবাইল, একটি টেলিভিশন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।