নওগাঁর পত্নীতলায় সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সূত্র জানায়,রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ খঞ্জনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ২৫১ এমপি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খঞ্জনপুর ঈদগাহ মাদ্রাসা মোড় এলাকায় আমবাগানের পাশে চোরাকারবারিরা একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি বিক্রির চেষ্টা করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি বিশেষ টহল পরিচালনা করে।
বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মো. হাচানুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি টহলদল ক্রেতা সেজে সেখানে গেলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মূর্তিটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ২২ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের কষ্টি পাথরের মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, অধিনায়কের নির্দেশনায় অভিজ্ঞ স্বর্ণকার ও জুয়েলারি সংশ্লিষ্ট কর্মকারদের মাধ্যমে নাইট্রিক এসিড ও স্বর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে মূর্তিটিকে অত্যন্ত উচ্চমানের কষ্টি পাথরের তৈরি বলে নিশ্চিত করা হয়। জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকারদের মতে, উদ্ধারকৃত মূর্তিটির বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকারও বেশি।
এ ছাড়া আজ ১২ জানুয়ারি নওগাঁর পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা মূর্তিটি পরিদর্শন করেন। তাঁদের প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী, এটি ১১ থেকে ১২ শতকের মধ্যে নির্মিত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের মূর্তি।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, পিএসসি বলেন, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও অমূল্য সম্পদের অবৈধ পাচার, সীমান্ত অপরাধ এবং আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।